কাপাসিয়া বাজারে দখলদারিত্ব ও জালিয়াতির মাধ্যমে মালিকানা দাবির নেপথ্যের সত্যতা

মীর মাসুদ করিম  | কাপাসিয়া, গাজীপুর। ৩ রা জুন বুধবার ২০২৬ ইং

গাজীপুরের কাপাসিয়া বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক ঘর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘরটির প্রকৃত মালিকানা প্রকৌশলী শাহিন ও তার পরিবার (শাহিন গং)-এর হলেও, ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা মুফতি নিজাম কৌশলে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিজেকে মালিক হিসেবে দাবি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি এখন এক জটিল আইনি ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত মালিকানা

অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত ঘরটির বৈধ মালিক প্রকৌশলী শাহিন গং। মুফতি নিজাম এই ঘরটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছিলেন। ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দখলদারিত্বের নাটকীয় প্রেক্ষাপট

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুফতি নিজাম যদি সত্যিই ঘরটির বৈধ মালিক হতেন, তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাকে ঘর থেকে উচ্ছেদ করে তালা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটত না। আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রশাসন সে সময় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। প্রকৃত মালিকানা থাকলে এমন আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাত গভীরের রহস্যজনক দখল

অভিযোগ রয়েছে যে, নিজাম নিজেকে মালিক দাবি করার পেছনে কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন রাতের বেলা ঘর দখলের ঘটনাটিকে। কাপাসিয়া বাজারের মতো একটি জনবহুল এলাকায় রাত ২টার সময় ২৫০-৩০০ ভাড়াটে লোক নিয়ে ঘর দখল করার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড কোনো প্রকৃত মালিকের পক্ষে করা সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসী মন্তব্য করেছেন। যারা বৈধ মালিক, তারা আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেবেন, কিন্তু গভীর রাতে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে দখল নেওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে, পুরো কর্মকাণ্ডটি ছিল অবৈধ ও পেশিশক্তির প্রয়োগ।

একজন ভাড়াটিয়া হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাতের এই প্রচেষ্টা আইনের শাসনের পরিপন্থী। কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকৃত মালিক প্রকৌশলী শাহিন গং যেন তাদের সম্পত্তির অধিকার ফিরে পান এবং যারা জালিয়াতির সাথে জড়িত ও রাতের অন্ধকারে দখলদারিত্ব কায়েম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com