বিশেষ প্রতিনিধি :
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে শেষ বিদায়ের লগ্নে জানাজায় শরীক হন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন৷ নেত্রী কে দাফন করে তিনি তাঁর ভেরিফাই পেইস বুক পেইজে এক আবেগ ঘন স্ট্যাটাস দেন। পাঠকদের সুবিধার্থে হুবহু তা তুলে ধরা হল।
“স্মৃতিতে অমলিন দেশনেত্রী: এক মহাকাব্যিক শ্রদ্ধাঞ্জলি” আজ ৩১-১২-২০২৫ ইং মানিক মিয়া এভিনিউতে মানুষের এই অন্তহীন জনসমুদ্র দেখে হৃদয় বারবার ফিরে যাচ্ছে ইতিহাসের এক বিষাদময় অধ্যায়ে—১৯৮১ সালের সেই শোকাহত ২ জুনে। যেদিন স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ঢল নেমেছিল। দীর্ঘ চার দশক পর আজ আধুনিক গণতন্ত্রের রূপকার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের সেই একই আবেগ, সেই একই কান্না আবারও প্রমাণ করে দিল—জিয়া পরিবার এই দেশের মাটি ও মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত।
শহীদ জিয়া ছিলেন এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক—যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ ও সাহসী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয়ের এক মহীয়সী প্রতীক—যিনি প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়ে জাতির সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন অটল দৃঢ়তায়।
আজ স্মৃতির পাতায় বারবার ভেসে উঠছে সেই ক্রান্তিকালীন দিনগুলোর কথা। শহীদ জিয়ার শাহাদাতের পর, ছাত্রদলের *সভাপতি**হিসেবে রাজপথে সক্রিয় থাকার দিনগুলো—প্রিয় নেতাকে হারানোর গভীর শোকের মাঝেও দেশনেত্রীকে রাজনীতির অঙ্গনে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাঁকে শক্ত হাতে নেতৃত্বের হাল ধরতে অনুপ্রাণিত করার সেই ঐতিহাসিক ক্ষণে অংশীদার হতে পারা ছিল আমার জীবনের এক বিরল সৌভাগ্য ও গর্বের অধ্যায়।
আজ মানিক মিয়া এভিনিউতে দাঁড়িয়ে আরও এক গভীর অনুভূতি আমাকে স্পর্শ করেছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালীন সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটিতে যাঁরা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন—**আজ তাঁদের অনেকেই নিজ নিজ জেলায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সমাসীন থেকে দলের হাল ধরে আছেন।আজ অনেকের সাথেই দেখা হলো। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে চেহারায় অভিজ্ঞতার ছাপ পড়লেও কুশল বিনিময়, চোখের চাহনি আর করমর্দনের ভেতর দিয়ে পুরোনো দিনের সেই লড়াকু তেজ আবার নতুন করে জেগে উঠলো। সময় বয়ে গেছে বহুদূর, কিন্তু হৃদয়ে লালিত আদর্শের সেই দ্রোহের আগুন আজও অনির্বাণ, সেটাই আজ তীব্রভাবে অনুভব করেছি।
সময়ের আবর্তে রাজনীতির পথে আজ আমাদের মত ও অবস্থানের ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও হৃদয়ের গভীর টানের কাছে রাজনীতি সবসময়ই গৌণ। দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, এক পরম অভিভাবককে হারানোর এই শোক ভাষায় প্রকাশের অতীত।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাঁকে পরকালে শান্তিতে রাখেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন—এই দোয়াই রইল।
বিনম্র শ্রদ্ধায় অবনত চিত্তে বলি— পরবর্তী সময়ে নানা বাস্তবতায় তাঁর সঙ্গে পথচলা অব্যাহত রাখতে না পারার জন্য যদি তাঁর মনে কখনো কষ্ট থেকে থাকে—
সেই অপ্রাপ্তির জন্য আজ এই শোকের মুহূর্তে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

