নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন ২০২৫ নিয়ে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ঘোষিত চার দিনের ট্যুর মাত্র আড়াই দিনের মধ্যেই শেষ করে দেওয়া, খাবার ও আবাসনের নিম্নমান, দায়িত্বহীন ব্যবস্থাপনা এবং সদস্যদের প্রতি অবমাননাকর আচরণের কারণে অনেক সদস্যই সংগঠনের এমন আয়োজনকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।
অংশগ্রহণকারীদের সাংবাদিকরদের অভিযোগ, ট্যুরের শুরু থেকেই সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীলদের কোনো মনোযোগ বা যত্ন দেখা যায়নি। কারও খোঁজখবর নেওয়া হয়নি, খাবার পরিবেশনে ছিল বিশৃঙ্খলা, এমনকি আবাসনের ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।
সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী ট্যুরের মেয়াদ ছিল চার দিন। কিন্তু হঠাৎ সিদ্ধান্তে ট্যুর সীমিত করে মাত্র আড়াই দিনে শেষ করা হয়। শেষ দিন সকাল ১০টার মধ্যেই সদস্যদের হোটেল ছাড়তে বলা হলেও বাস ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টার পর। সারাদিন কোনো নির্ধারিত কর্মসূচি ছাড়াই সদস্যদের চা দোকান, বীচ এলাকা ও আশপাশে এলোপাতাড়ি ভাবে ঘুরে সময় কাটাতে হয়।
সবচেয়ে ক্ষোভের বিষয় ছিল খাবার। সকালের নাস্তায় দেওয়া হয় আগের দিনের অবশিষ্ট সবজি ও খিচুড়ি। অনেকেই এটিকে “অপেশাদার ও অসম্মানজনক আচরণ” বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া নিম্নমানের গাড়ি ব্যবস্থার কারণে সদস্যদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। খাবার খেতে যেতে প্রতি বেলায় রিকশাভাড়া হিসেবে দিতে হয়েছে ৬০ টাকা পর্যন্ত। বাবুর্চি দ্বারা সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে বাবুর্চি জানান, “সবকিছুই সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিতে হচ্ছে।”
অংশগ্রহণকারীরা আরও অভিযোগ করেন, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত “অনুষ্ঠানের নামে” সদস্যদের অযথা আটকে রাখা হয়, যা অনেকের কাছে অমানবিক আচরণ বলে মনে হয়।
সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে অনুষ্ঠানস্থলে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের সামনের আসন থেকে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতিকে উঠিয়ে দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এ ঘটনায় উপস্থিত সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া “পুরস্কার বিতরণী” অনুষ্ঠানও অনেকের কাছে তামাশায় পরিণত হয়। প্রতিজনকে দেওয়া হয় একটি করে সাধারণ প্লেট।
একজন সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দময় কিছু সময় কাটাবো, কিন্তু যা দেখলাম তা এক প্রকার তামাশা ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। আয়োজকদের এত বড় একটা অনুষ্ঠানের আগে পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সুনাম রয়েছে। তবে এবারের বনভোজন আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন বনভোজনে যাওয়া অনেক সদস্য।
বনভোজনে সাংবাদিক ছাড়াও বহিরাগতদের নিয়ে যাবার অভিযোগও উঠেছে।