বাংলা প্রতিদিন।। শ্রীপুর থেকে ফিরে :
শ্রীপুরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নির্বাচনের আগে দেশে অরাজকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টি ও গুপ্ত হত্যা করে নির্বাচন বাতিল করতে ফ্যাসিবাদীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা অপকর্ম ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সহ – সভাপতি, বাংলাদেশ যুবলীগ শ্রীপুর পৌর শাখা মহসিন আহমেদ এক সময় শ্রীপুর পৌরসভার অলিখিত ডন ছিলেন। সে গত ৬ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয়। নীচে তা তুলে ধরা হলো :
৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং মহসিনের বক্তব্য :
[ আমার ভেকু ভাড়ার কথা বলে নিয়ে জবর দখল করলো ! অপরাধ আমি আওয়ামীলীগ করি। যখন সে শুনলো আমি আওয়ামীলীগ করি তখনই সে আমার ভেকুটি আটকিয়ে দেয়। এ নিয়ে আমি শ্রীপুর থানায় ও র্যাবে অভিযোগ করি কিন্তু সে বিএনপির ক্ষমতা খাটিয়ে ভেকুটি আর দেয় না । এখনও পর্যন্ত তার কাছেই আছে ভেকুটি । বহেরার চালার পল্লী বিদ্যুৎ এর ইন্জিনিয়ার মাহমুদুল এর বোন জামাই সে। এত দিন পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার মানে আমি বিচার চাইনি কারও কাছে সময় বদলাবে খুব শীঘ্রই আমার বিচার আমি নিজ হাতে করবো অপেক্ষায় রইলাম।
আমি বিভিন্ন বিএনপির নেতাকে জানানোর পর তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অবশেষে আমি থানাতে অভিযোগ করি তাতেও কোন সমাধান হয়নি বরংচ আমার ফ্যামিলির সদস্যদের অপমানিত হতে হয়। সাখাওয়াত হোসেন সবুজ সাহেবের কাছে সাংবাদিক হাসান কাজল ভাই কে দিয়ে কথা বলিয়েছি তাতেও কোনো সমাধান হয়নি। ]
এ হলো মহসিন আহমেদের ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার।
সাজেদুলের বক্তব্য :
[ গত ১২ / ১৩ মাস আগে থ্রি ভেকুটা মহসিনের সাথে চুক্তির মাধ্যমে ভাড়ায় আনি। চুক্তির কোন শর্তই পালন করেনি তিনি। মাসে ২৪০ ঘন্টা সার্ভিস দিবে, ড্রাইভার এবং নষ্ট হলে ঠিক করে দেয়ার দায়িত্ব মালিকের। ড্রাইভারের বেতন বাবদ প্রতিদিন ১৫০০ টাকা করে দিতে হয়। প্রথম যেদিন ভেকু আনলাম মাত্র ৪০ মিনিট সার্ভিস দিয়ে ভেকু নষ্ট হয়ে যায়। ৭ দিন পর আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভেকু মেরামত করে দেয়। ৫ দিন চলার পর আবারো নষ্ট হয়ে যায়। ১২ মাস যাবত ভেকু আমার কাছে কিন্তু চালাতে পেরেছি মাত্র ২০/২৫ দিনও। চুক্তি অনুযায়ী যে টাকা দেয়ার কথা ছিলো নানা বাহানায় তিনি তার চেয়ে তিনগুণ বেশী টাকা নিয়ে গেছে আমার কাছ থেকে। এ অবস্থায় আমি মহসিন সাহেবকে বলি আমার সাথে হিসাব কিতাব করে আপনি আপনার ভেকু নিয়ে যান। তারপর তিনি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি মহসিন সাহেবকে কতো টাকা দিয়েছি সমস্ত কাগজপত্র প্রমাণাদি আমার কাছে আছে। মহসিন সাহেব আমার সাথে কোন কথা না বলে গত ৬ ডিসেম্বর তার ফেসবুকে সাখাওয়াত হোসেন সবুজ ভাই ও মাহমুদুল ভাইকে জড়িয়ে যে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ব্যবসাটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত এ ব্যবসায় সবুজ ভাই বা অন্যকারো সম্পৃক্ততা নাই। মহসিন সাহেব আপনি আওয়ামীলীগ করেন এটা শ্রীপুর তথা সারা গাজীপুরবাসী জানে। আমি এখন জানবো কেন? শাক দিয়ে মাছে ঢাকার চেষ্টা কইরেননা। আপনি দেশের বাহিরে বসে মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো বন্ধ করেন। আপনাকে আমি পূর্বেও বলেছি এখনো বলছি লোক পাঠান হিসাব কিতাবে বসেন আপনি টাকা পাওনা হলে নিবেন আর আমি টাকা পাওনা হলে দিয়ে ভেকু নিয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনারা যা করেছেন তা শ্রীপুরবাসী জানে। ] আমার ব্যক্তিগত বিষয়টা রাজনৈতিক ইস্যু বানানো চেষ্টা করছে। [ আমি বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডাইরি করেছি ]
পৌরযুবলীগের সহ- সভাপতি মহসিন দাপট :
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহসিন আহমেদ, সহ – সভাপতি, বাংলাদেশ যুবলীগ শ্রীপুর পৌর শাখা। গাজীপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগ। শ্রীপুরে সমস্ত চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এমন কোন অপকর্ম নাই যার সাথে মহসিন জড়িত নাই। বর্তমানে দেশের বাহিরে পলাতক থেকে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশে নৈরাজ্য ও অরাজকতা সৃষ্টির জন্য বিএনপির’ বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে শ্রীপুরসহ আসেপাশের কয়েকটি থানায় বিভিন্ন মামলা আছে বলে জানা যায়।