বিশেষ প্রতিনিধি
স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) আবুল বাছেদ মোহাম্মদ রেজাউল বারী এলজিইডি, ঢাকা বিভাগ এর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে তৃত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) এলইজিডি এর দায়িত্ব পালন করেন।
এবিএম রেজাউল বারীর বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন খোদ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ।
অভিযোগে তিনি বললেন, পতিত আওয়ামীলীগ এর অঙ্গসংগঠন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও এলজিইডি শাখা-র নেতা পরিচয়ে ক্ষমতার দাপটে তিনি প্রচুর অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ছাত্র জীবনে তিনি বুয়েট ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কারনে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীদের খুবই আস্থভাজন ছিলেন।
পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তিনি লালমনিরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ৩ বছর এবং ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে ২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি সারা দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী অবকাঠামো পূর্নবাসন এর পিডি হিসাবে দায়িত্ব নেন ।
নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রতিটি টেন্ডার অনুমোদনে ৫% অর্থ আদায় করতেন এবং বিল থেকে ২% টাকা ঠিকাদার এর নিকট থেকে নিতেন। প্রকল্প পরিচালক থাকাকালীন সময়ে তিনি দুর্নীতি করে অনেক অর্থ উপার্জন করেছেন। পুর্নবাসনের নামে অনেক রাস্তার কাজ না করেই বিল প্রদান করেছেন বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়।
দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত বহির্ভূত আয় দিয়ে তিনি ২টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন যার মূল্য ১০ কোটি টাকা। তিনি বগুড়ায় বানিয়েছেন ৪ তলা বাড়ী যার মূল্য ৫ কোটি টাকা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৫ কাঠা জমির উপর নির্মান করেছেন ৮ তলা ভবন যার মূল্য ১৫ কোটি টাকা। ঢাকার পূর্বাচলে কিনেছে ৫ কোটি টাকায় ৫ কাঠার একটি প্লট। গ্রামের বাড়ীতে কিনেছে প্রায় ৫০ বিঘা জমি। প্রচলিত আছে তার ইশরা ছাড়া গ্রামে কেহ জমি কেনা-বেচা করতে পারে না। এছাড়া তার নামে/বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক এ আছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজাউল বারী প্রতিবেদককে দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলেন এগুলো আমার ব্যাক্তিগত বিষয়। এ ব্যাপারে আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে বাধ্য নই। তাছাড়া অন্য কোন বিষয় থাকলে বলুন আমি আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারপর আপনাদের জানাব।
দূর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নওয়া উচিত বলে এলইজিডির সাধারন প্রকৌশলীরা মনে করে।