[] বিএপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীরই সক্রিয় প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠ এখন সরব।
[] ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী সালাউদ্দিন আইউবী জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী।
[] নিজস্ব প্রতিবেদক।। কাপাসিয়া :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সালাউদ্দিন আইউবীর পক্ষে ইতোমধ্যেই ব্যাপক ও অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে দাঁড়িপাল্লার গণজাগরণ ততই যেনো বেড়ে চলছে । অতীতে কাপাসিয়ায় কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে এমন একক গণজোয়ার দেখা যায়নি। অনেকেই সালাউদ্দীন আইউবীর পক্ষে এমন নির্বাচনী জোয়ারকে বিরল ও অভূতপূর্ব গণজাগরণ বলে অভিহিত করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ না থাকায় তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
দু’দলের প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী ব্যাপক প্রচার প্রচারণা থাকলেও সালাউদ্দিন আইউবীর দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় রয়েছে ভিন্নমাত্রা ও নান্দনিকতা।
যুবক ও তরুণ প্রজন্মের আইকন :
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাউদ্দিন আইউবী একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তরুণ প্রজন্মের একজন আইকন। কোটি ছাত্র যুবকের আইডল। ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত সালাউদ্দীন আইউবী বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে হাদিস শাস্ত্রে সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রি কামিল পাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।পাশাপাশি তিনি আইন শাস্ত্রে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
মানবিক সালাউদ্দিন আইউবী ;
তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়ায় বিভিন্ন মসজিদে জুমাবারে খুতবা দেয়া থেকে শুরু করে অসংখ্য জানাজার নামাজে অংশ গ্রহণ ও ইমামতি করে ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সালাউদ্দিন আইউবী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার, বিনামূল্যে ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, অসহায় মানুষের চোখের ছানি অপারেশন, টিউবওয়েল বিতরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে গরু, ছাগল বিতরণ, গৃহ নির্মাণে টিন বিতরণ, নতুন মসজিদ ও অযুখানা নির্মাণ, মন্দির সংষ্কারে অর্থ বরাদ্দের মতো নানা ধরনের জনহিতকর ও মহতি কাজ করে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।
তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের স্বপ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মু. সালাউদ্দিন আইয়ুবী বলেন ,তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করব, মহান স্বাধীনতা কে ধারন করব এবং ৭১ কে পুঁজি করে স্বাধীনতা বিরোধী কোন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে অন্যের দাসত্বে পরিণত হবো না। আমরা স্বাধীন স্বাধীনভাবে পথ চলব এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা আমাদের পথ চলার অনুপ্রেরণা। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই চেতনার পরিপন্থী কোন কাজ করবনা। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যে কোন প্রকার দুর্ণীতি, দখলবাজী, চাঁদাবাজী প্রতিরোধ করা হবে। গণমানুষের আকাঙ্খার ন্যায় ভিত্তিক সমাজিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। তিনি আশা করেন মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককেই পছন্দ করে বেছে নিবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অন্য দল
এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য, কাপাসিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মরহুম ডা: সানাউল্লাহ’র ছেলে মেজর (অব:) শফিউল্লাহ মিঠু। শাহ রিয়াজুল হান্নান ও শফিউল্লাহ মিঠু একই ইউনিয়ন ঘাগটিয়ার বাসিন্দা।
এ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী এনামুল কবির (লাঙ্গল), কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা কাজিম উদ্দিন (হাতপাখা), আমজনতার জাকির হোসেন (প্রজাতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ আসনের ভোটার সংখ্যা :
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, , ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কাপাসিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯৫১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৮০ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে এ অংশটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এ আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার তরুণ ভোটার রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও প্রথমবারের ভোটার এ নির্বাচনে বিজয় নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর-৪ আসনে প্রচলিত দলীয় ভোটব্যাংকের পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের মনোভাবই এবার নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। সালাউদ্দীন আইউবী ইতোমধ্যে তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর সভা সমাবেশে তরুণদের অংশ গ্রহণ অনেক বেশি লক্ষনীয়। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ও বক্তব্যে তরুণ সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা তুলে ধরছেন।
[] তরুণ ভোটারদের মধ্যে জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার আন্দোলনের প্রভাব বিদ্যমান।
মুখ খুলতে নারাজ সাধারণ ভোটারা ;
এবারের নির্বাচনে অনেকেই কাকে ভোট দিবেন এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। এ সব নীরব ভোট ব্যালটে বিপ্লব ঘটাতে পারে যে কোন দলই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। ভোটারদের সাথে আলাপচারিতায় এবং মাঠ পর্যায়ে সমীকরণ বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে।
এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জামাত নেতা কর্মীরা।
সালাউদ্দিন আইউবীর পক্ষে অনেকটা নিজের খেয়ে দাড়িপাল্লার পক্ষে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তিনি ইতোমধ্যেই কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের মন জয় করতে ও কাছে টানতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচনে অন্য সকল প্রার্থীর চেয়ে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আইউবী। ছাত্র, যুবক, নারী পুরুষ ও আবালবৃদ্ধবনিতার ভালোবাসায় সিক্ত সালাউদ্দিন আইউবীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সালাউদ্দিন আইউবীর নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিজয় এখন লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। প্রতিটি বাড়ি ঘরে, হাট বাজারে, চা স্টলে চায়ের আড্ডায় দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের কথা আলোচনা হচ্ছে। মুখে মুখে রটে যাচ্ছে- “ইনশাআল্লাহ, দাঁড়িপাল্লা, বারো তারিখ সারাদিন, দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিন, সীল মারো ভাই সীল মারো, দাঁড়িপাল্লা মার্কায় সীল মারো ” শ্লোগান এবং এসব শ্লোগানে মুখরিত জনপদ কাপাসিয়ার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীকের বিজয়ের।