বাংলা প্রতিদিন নিউজ :
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং শিক্ষকদের প্রতি অন্যায় প্রশাসনিক কৌশল-এসব শুধু নৈতিকভাবে নিন্দনীয় নয়, বরং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী। বাংলাদেশের প্রচলিত কর্মনীতি, শিক্ষা নীতিমালা এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের আলোকে প্রত্যেক শিক্ষক সমান মর্যাদা, ন্যায্য আচরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে- ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান, অযৌক্তিক শোকজ নোটিশ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণে বঞ্চনা, গোপনীয় প্রতিবেদনে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার, আর্থিক সুবিধা প্রদানে বিলম্ব-এসব কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই-ক্ষমতার অপব্যবহার (Abuse of Power), প্রশাসনিক বৈষম্য (Administrative Discrimination), মানসিক হয়রানি (Psychological Harassment) যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্মরণ রাখা প্রয়োজন- একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না; তার প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে বিধি, নীতিমালা ও জবাবদিহিতার আওতায়।
অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করা হোক, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণ করা হোক এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। শিক্ষককে অবমূল্যায়ন করা মানেই জাতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া।
[ অধ্যাপক কাজী বোরহান উদ্দিন, ব্যবস্হাপনা সম্পাদক- দৈনিক বাংলা প্রতিদিন ]