কাজী বোরহান উদ্দিন
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নির্ভর করে তার শিক্ষকদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাস্ট্রীয় মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার উপর। অথচ বাস্তবতা হলো-কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজে অনার্স শিক্ষকদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, বরং এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অবিচার।
একই দায়িত্ব, কিন্তু অধিকারহীন অবস্থান, অনার্স শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নেন, পরীক্ষা নেন, ফলাফল প্রস্তুত করেন-অর্থাৎ একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই কাজের স্বীকৃতি কোথায়?
তাদের অনেকেই এমপিওভুক্ত নন, নিয়মিত বেতন পান না, আর্থিক নিরাপত্তা নেই। একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও একদল শিক্ষক মর্যাদা ও সুবিধা পায়, আর অন্যদল বঞ্চিত থাকে-এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এটা প্রশাসনিক উপেক্ষা: নাকি পরিকল্পিত অবহেলা?
অনার্স শিক্ষকদের অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখা হয়। অথচ কলেজের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের বড় অংশ তাঁদের উপর নির্ভরশীল। এটি কি কেবল অবহেলা, নাকি একটি অঘোষিত বৈষম্যমূলক নীতি-এই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে উঠছে।
বৈষম্যের প্রভাব:
শিক্ষার মানে সরাসরি আঘাত যে শিক্ষক নিজেই অনিশ্চয়তায় থাকেন, তিনি কীভাবে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে পাঠদান করবেন?
ফলাফল একটাই-শিক্ষার মান কমে যায়, শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়, এবং প্রতিষ্ঠান তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের সামগ্রিক সংকটের পেছনে এই বৈষম্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
দায় এড়ানোর সুযোগ নেই, এই পরিস্থিতির জন্য শুধু প্রশাসন নয়, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরাও দায় এড়াতে পারেন না। বছরের পর বছর অনার্স শিক্ষকদের এই অবস্থায় রেখে দেওয়া মানে সমস্যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা। এটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়-এটি দায়িত্বহীনতার স্পষ্ট প্রমাণ।
এখনই সিদ্ধান্তের সময়, এই বৈষম্য দূর করতে হলে কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন-অনার্স শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে। সমান কাজের জন্য সমান বেতন নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামোয় তাদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরির স্থায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ কথা:
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ যদি সত্যিই তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে চায়, তাহলে প্রথমেই অনার্স শিক্ষকদের প্রতি এই বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, সব অবকাঠামো, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে নিজের ভিত্তি নিজেই ধ্বংস করে ফেলবে।
লেখক ও কলামিস্ট অধ্যাপক কাজী বোরহান উদ্দিন