গোলাম সারোয়ার,কাপাসিয়া |
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় গত কয়েকদিনের সামান্য বৃষ্টিপাতই এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
বর্তমান পরিস্থিতি
গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির পর কাপাসিয়া সদরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি এখন পানির নিচে। বিশেষ করে কাপাসিয়া বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিচু এলাকা এবং উপজেলা পরিষদের আশপাশের রাস্তাগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাব শুধুমাত্র রাস্তাতেই সীমাবদ্ধ নেই; পানি ঢুকে পড়েছে নিচু এলাকায় অবস্থিত সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতেও।
ভুক্তভোগীদের চিত্র
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসাবাড়িতে পানি: অনেক পরিবারের রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শোয়ার ঘর পর্যন্ত পানি প্রবেশ করেছে। ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে এবং নোংরা পানিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
ব্যবসায়ী ক্ষতি:
বাজারের নিচু দোকানগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ভিজে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ভোগান্তি:
কর্দমাক্ত এবং নোংরা পানি মাড়িয়েই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় রিকশা বা অটোরিকশাও উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
জলাবদ্ধতার মূল কারণসমূহ
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এই সমস্যার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে ;
১. অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা: ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এবং ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি সরতে পারছে না।
২. খাল ও জলাশয় ভরাট: এক সময়ের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ হিসেবে পরিচিত খাল ও নিচু জমিগুলো দখল করে ভবন নির্মাণ করায় পানি নামার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার ফলে নর্দমাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
“একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি চলে আসে। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে রাত কাটাতে হয়। ড্রেনগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার থাকলে আমাদের এই দশা হতো না।”
— আবুল হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা।
প্রতিকারের দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, আসন্ন বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ড্রেনগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা এবং যেখানে ড্রেন নেই সেখানে নতুন নিকাশী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
উপেক্ষিত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে সামনের মাসগুলোতে কাপাসিয়ার জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজ দেয়া বক্তব্য :
কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন রাস্তা ও ড্রেনটির জলাবদ্ধতা নিরসনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
“উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কাপাসিয়া, গাজীপুর” ফেসবুক পেইজে দেয়া এক বার্তায় বলা হয়। গত ১ বছরে এই ড্রেনটি ৪ বার পরিস্কার করা হয়েছে। এই ড্রেনটি এবং রাস্তা গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন হওয়ায় এই রাস্তায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ড্রেনের ডিজাইন এবং স্ট্রাকচারাল কোন পরিবর্তন করার বিধান নেই। তাই আমরা শুধু সাময়িক সমাধান করতে পারি।