গোলাম সারোয়ার কাপাসিয়া।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে শত শত বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতি
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার ফসলি জমিগুলো এখন পানির নিচে। বৃষ্টির পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
আক্রান্ত এলাকা:
কাপাসিয়ার টোক, বারিষাব, আড়াল, সিংহশ্রী এবং রায়েদ ইউনিয়নের নিচু জমিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফসলের অবস্থা: কৃষকদের দাবি, শত শত বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। অধিকাংশ ধানই এখনো কাটার উপযোগী হয়নি (আধাপাকা)।
কৃষকদের আর্তনাদ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চড়া দামে সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে তারা এই ফসল ফলিয়েছিলেন। ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।
“ঋণ করে দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ধান পাকতে আর ১০-১৫ দিন বাকি ছিল। এখন সব পানির নিচে। ধান পচে যাওয়ার ভয়ে আমরা দিশেহারা।”
— স্থানীয় এক কৃষক
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
সুপারিশ ও সমাধান
১. পানি নিষ্কাশন: স্থানীয় খাল ও নালাগুলো পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
২. আধা-পাকা ধান কাটা: কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধান ৮০% পেকে গেলে তা দ্রুত কেটে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. সরকারি প্রণোদনা: ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে সার, বীজ বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
কাপাসিয়ার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। এই অকাল বর্ষণ কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও সঠিক কৃষি পরামর্শই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।