গোলাম সারোয়ার, কাপাসিয়া।।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে এক বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জেরে গত দিবাগত রাতে নিজ স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী ফোরকান পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে জানা গেছে, ঘাতক ফোরকানের মূল বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়। গত এক বছর যাবত সে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সপরিবারে বসবাস করে আসছিল। সে কাপাসিয়াতে একটা ব্যাটারী ফ্যাক্টরীরতে গাড়ী চালক হিসাবে চাকুরী করতো। গতরাত আনুমানিক শেষ প্রহরে ফোরকান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রসুলকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফোরকানের সাথে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ ও কলহ চলছিল। এই বিবাদের সূত্র ধরে ইতিপূর্বে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ফোরকানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। সেই বিবাদের জের ধরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য :
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর আলম জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গতকাল তাঁর শ্যালককে চাকুরী দেয়ার কথা বলে কাপাসিয়ায় তার বাসায় আনেন। আমরা জানতে পেরেছি যে, এই দম্পতির কলহ নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় আগে থেকেই একটি অভিযোগ ছিল।”
তিনি আরও জানান, অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এলাকায় শোকের ছায়া:
একই পরিবারের পাঁচজনকে এভাবে হত্যান্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাউৎকোনা গ্রামসহ পুরো কাপাসিয়া উপজেলায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ফোরকানের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।