গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় যখন পুরো এলাকা শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ, ঠিক তখনই মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তার সরাসরি তদারকি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে নিহতদের লাশ দ্রুত ময়নাতদন্ত শেষে গভীর রাতেই নিজ জেলা গোপালগঞ্জে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক নিয়মের গণ্ডি পেরিয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুপুর ২টার পর ময়নাতদন্ত বন্ধ থাকলেও, লাশগুলোর দ্রুত পচনের আশঙ্কা থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতেই পাঁচটি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেন। নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩৫), ছেলে রসুল (২২) এবং শারমিন-ফোরকান দম্পতির তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (০৮) ও ফারিয়া (০২)। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শারমিনের স্বামী ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। এতেই থেমে থাকেননি তিনি। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দীর্ঘ পথের কথা মাথায় রেখে লাশ পরিবহনে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নিজ উদ্যোগে দুটি অত্যাধুনিক ফ্রিজিং ভ্যানের ব্যবস্থা করেন। শুরুতে পিকআপ ভ্যানে লাশ পাঠানোর চিন্তা থাকলেও, সম্ভাব্য বৃষ্টি ও লাশের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে দাফন ও পরিবহন সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেন। গভীর রাতে ফ্রিজিং ভ্যানগুলো লাশ নিয়ে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৬ টায় লাশবাহী ভ্যান দুটি এলাকায় পৌছায় এবং সকাল ১১ টায় তাদের জানাজা মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন। 
