লেখক ও কলামিস্ট- অধ্যাপক কাজী বোরহান উদ্দিন
সত্যের পথে হাঁটা কখনোই সহজ নয়। সত্য উচ্চারণের প্রতিটি পদক্ষেপে থাকে ভয়, বাধা, ষড়যন্ত্র ও আঘাতের আশঙ্কা। তবুও কিছু মানুষ নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়েও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকেন। প্রবীণ সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার তেমনই এক সাহসী মানুষ, যিনি সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক মহান ব্রত হিসেবে ধারণ করেছেন।
২৯ মে তাঁর জন্মদিন। ১৯৬৮ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কেটেছে গাজীপুরের কাপাসিয়ায়-একটি আলোকিত শিক্ষক পরিবারে। তাঁর বাবা-মা ছিলেন জ্ঞান ও মানবিকতার পথপ্রদর্শক। সেই পারিবারিক মূল্যবোধই তাঁকে সত্যনিষ্ঠ, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
১৯৯৬ সালে ‘বাংলা বাজার পত্রিকা’র মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। এরপর দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে তিনি বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন, শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন, কিন্তু সত্যের পথ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন-সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য, আর সত্য কখনো পরাজিত হয় না।
বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জগতে প্রয়াত সাইদুর রহমান রিমন ছিলেন এক কিংবদন্তি নাম। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর ইনভেস্টিগেশন সেলের প্রধান হিসেবে তিনি ছিলেন সাহসী সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৯৭ সাল থেকে গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে তাঁর যে গভীর সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, তা ছিল আদর্শ, বিশ্বাস ও সত্য অনুসন্ধানের এক দুর্লভ বন্ধন। রিমনের সম্পাদনায় ‘দৈনিক দেশবাংলা’ পত্রিকায় গোলাম সারোয়ার কান্ট্রি এডিটর হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সম্পাদিত ‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’-এর কান্ট্রি এডিটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
গোলাম সারোয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর মানবিকতা। তিনি পদ-পদবীর অহংকারে বিশ্বাসী নন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ঠোঁটে লেগে থাকা মৃদু হাসি, বিনয়ী আচরণ ও স্বল্পভাষী ব্যক্তিত্ব মানুষকে সহজেই আপন করে নেয়। বস্তুবাদী জীবনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব তিনি কখনো করেননি; বরং মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা অর্জনকেই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেছেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কাকে বলে, কিভাবে সত্য উদঘাটনের জন্য ঝুঁকি নিতে হয়-তা তিনি ও সাইদুর রহমান রিমন নতুন প্রজন্মকে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। দেশজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে তিনি মানুষের সুখ-দুঃখ, বঞ্চনা ও বাস্তবতা তুলে ধরেছেন সংবাদমাধ্যমে। সাংবাদিকতায় কাপাসিয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কাপাসিয়ার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবং স্থানীয় নানা সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত।
আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা জানানোই যথেষ্ট নয়; তাঁর প্রতি জানাতে হয় গভীর শ্রদ্ধা। কারণ তিনি আমাদের শিখিয়েছেন-সত্যের পথে আঘাত আসবে, বাধা আসবে, তবুও মাথা নত করা যাবে না। সততা, সাহস ও মানবিকতার যে আলোকবর্তিকা তিনি জ্বালিয়ে রেখেছেন, তা আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
প্রার্থনা করি, তিনি সুস্থ থাকুন, দীর্ঘায়ু হোন এবং তাঁর আলোকিত পথচলা আরও বর্ণিল হয়ে উঠুক।
শুভ জন্মদিন, গোলাম সারোয়ার।
আপনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, আপনি সত্য ও সাহসের এক জীবন্ত প্রতীক।